ঢাকা, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫: বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির ওপর দুর্বৃত্তদের গুলিবর্ষণের ঘটনা। গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় মোটরসাইকেলে আগত অজ্ঞাত হামলাকারীরা তাঁকে মাথায় গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসকদের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, ওসমান হাদির অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। মস্তিষ্কে গুলির খণ্ডাংশ রয়ে গেছে এবং তিনি ভেন্টিলেটর সাপোর্টে আছেন। মেডিকেল বোর্ড জানিয়েছে, তাঁর মস্তিষ্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে আজ (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হবে উন্নত চিকিৎসার জন্য। চিকিৎসার সমস্ত খরচ বহন করবে রাষ্ট্র। তাঁর সঙ্গে যাবেন দুই ভাই।
ঘটনার পরপরই দেশজুড়ে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। জুলাই অভ্যুত্থানের কর্মীরা হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে হামলাকারীদের গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, রাজনৈতিক দল ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে শ্যুটারকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার হয়েছে, তবে প্রধান সন্দেহভাজনরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। কেউ কেউ দাবি করেছেন, হামলাকারীরা সম্প্রতি ওসমান হাদির প্রচারণা টিমে যোগ দিয়েছিল।
পটভূমি: শরীফ ওসমান হাদি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সক্রিয় যোদ্ধা। অভ্যুত্থানের পর তিনি ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করেন, যা স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সংস্কারের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত। তিনি আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ, অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা এবং জাতীয় সরকার গঠনের দাবিতে সরব ছিলেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন এই হামলা অনেকের কাছে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র বলে মনে হচ্ছে। এর আগে তিনি বিদেশি নম্বর থেকে হত্যার হুমকি পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এই ঘটনাকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন এবং দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। দেশবাসী ওসমান হাদির দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন। এই ঘটনা আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সহিংসতার উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
