সালমান শাহ হারানো 26 বছর সালমান শাহ হারানো 26 বছর

সালমান শাহ হারানো 26 বছর

একটা কথা মনে পড়ে গেল "সময় চলে যায় রেখে যায় স্মৃতি মানুষ মরে যায় রেখে যায় স্মৃতি"  মানুষের ভালোবাসা একসময় প্রিয়জনকেও মানুষ ভুলে যায়। কিন্তু আজ এমন একজনের কথা বলবো যে কিনা 26 বছর আগে মারা গেছে। তার পরেও উজ্জ্বল একজন সিনেমাপ্রেমীদের ভালোবাসার মানুষ হিসাবে এখনো বেঁচে আছে এই পৃথিবীতে। পৃথিবী বদলেছে, মানুষের রচিত এসেছে পরিবর্তন কিন্তু সালমান এমন একটি নাম যে নাম এখনও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র রয়ে গেছে। আমি বলছি চলচ্চিত্র প্রেমীদের স্বপ্নের নায়ক সালমানশার কথা। সেপ্টেম্বর 6, 1996 সালের আজকের এই দিনে রহস্যমৃত্যুতে না ফেরার দেশে চলে যান। 1985 সালের দিকে অভিনয়ে আসেন সালমান শাহ। হানিফ সংকেতের কথার কথা ম্যাগাজিনের একটি গানে দেখা যায় তাকে।তারপর প্রথম নাটকে অভিনয় করেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত আকাশছোঁয়া পরে একাধিক নাটক ধারাবাহিকে অভিনয় করেন 1993 সালে। পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান এর হাত ধরে বড় পর্দায় আগমন ঘটে সালমান শাহ। পুরো নাম শাহরিয়ার চৌধুরী হলেও সালমান শাহ নামেই তিনি ব্যাপক পরিচিত। তিনি প্রথম 1992 সালের জুলাইয়ে সিনেমার প্রস্তাব পেয়েছেন। সিনেমাটি পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান বললেন নামটা বদলাতে হবে। ঢাকায় নামটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ  নামের ক্ষেত্রে সিনেমা জগতে একটি বিশেষ সাড়া ফেলে।

সালমান শাহ হারানো 26 বছর

 সালমান শাহ প্রথম সিনেমার মধ্য দিয়ে বিশেষভাবে সাড়া ফেলে চলচ্চিত্র জগতে। 1993 সালের 10 মার্চ মুক্তি পায় রহমান সোহান পরিচালিত কেয়ামত থেকে কেয়ামত সিনেমাটি। জানা যায় সালমান শাহ মৃত্যুর আগে, তার সঙ্গে তার বাবা দেখা করতে যান। কিন্তু তার বাবাকে তাদের বাসায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না। দাড়োয়ান গেট এ তার বাবাকে আটকে দেয় এবং বলে ম্যাডামের অনুমতি ছাড়া রুমে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। তার বাবা একরকম জোর করেই উপরে যান। সালমানের বাবা কলিং বেল দেয়ার পর দরজা খুলেন সামিরা। একটা কথা বলে দেই সালমানের বাবার নাম ছিল কমর উদ্দিন চৌধুরী। ছেলের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে সামিরা জানান সালমান ঘুমে। তারপর প্রায় দেড় ঘণ্টা বসেছিলেন কমরউদ্দিন। শোনা যায় সালমানশাকে দেখতে হলে তখনই যেতে হবে। ফোন পেয়ে নীলা চৌধুরী সালমানের বাসায় গিয়ে দেখেন সালমান বিছানার উপর। দেখলেন সালমানের পায়ের নখ। পরামর্শ করে দ্রুত হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেয়া হলে সালমানশাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে বলা হয় সালমান শাহ হত্যা করেছে। কিন্তু পরিবারের দাবী হত্যা করা হয়েছে। সালমানশার আকস্মিক মৃত্যুতে স্বাধীন পুরো দেশ স্তম্ভিত হয়ে যায়। তার মৃত্যুর খবর মেনে নিতে পারেননি অনেক ভক্ত।

সারা দেশে বেশ কয়েকজন তরুণী আত্মহত্যা করেছে বলেও খবর আসে সংবাদমাধ্যমে। ভক্তদের মাঝে তৈরি হয় নানা প্রশ্ন। সৃষ্টি হয় সালমান সাহার মৃত্যুতে অভাবনীয় ক্ষতির মুখে পড়ে ঢাকায় সিনেমা। অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করতে উঠেপড়ে লাগেন প্রযোজক-পরিচালকরা। সালমানশার অসমাপ্ত সিনেমাগুলোতে বিনা পারিশ্রমিকে এ কাজের ঘোষণা দিয়েছিলেন আমিন খান। সালমানের মতো দেখতে তরুণের খোঁজ করা হয়। পুরান ঢাকার একটি ছেলেকে পাওয়া যায় তার চুলের স্টাইল পেছন থেকে সালমানশার মত ক্যামেরা তুমি তাকে দিয়ে শেষ করা হয়। সিনেমাগুলি অভিনয় দক্ষতায় ও ফ্যাশন সচেতনতা এ যুগের চেয়ে গিয়েছিলেন সালমান শাহ। এর প্রজন্মের তারকাদের কাছেও তিনি প্রিয় একটি নাম কেয়ামত থেকে কেয়ামত সিনেমা সালমান শাহ এর ডায়লগ ডেলিভারি অভিনয় দক্ষতা সবকিছুতে দর্শকের হৃদয়ে গেঁথে যায়। তার অভিনয়ের ভিন্নধারা খুঁজে পেয়েছিলেন নির্মাতা। অল্প সময়ের জন্য রোমান্টিক হিরো পেয়েছিলেন সালমান শাহকে। অসংখ্য ভক্তের প্রিয় নায়ক সালমান শাহ নেই। আছে তার কাজ। তার অভিনীত সিনেমা সহকর্মী আর প্রিয় ইন্ডাস্ট্রি সালমান শাহকে স্মরণীয় করে রাখার উদ্যোগ নেয়া আজ সময়ের দাবি। সালমানভক্তদের দীর্ঘদিনের চাওয়া, তাকে স্মরণীয় করে রাখা হোক। এফডিসিতে যেমনি করে রাখা হয়েছে জহির রায়হান, জসিম এবং নায়ক মান্নাকে।

Previous Post Next Post

Featured Video